কেন আমার হোম সেরা/ আমার হোমের বিশেষত্ব

  • আমার হোম, রিহ্যাব সেন্টারে মাদক জনিত আসক্তি সমস্যার প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি আমরা অফার করি ক্লায়েন্টদের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা সহ মাদকাসক্তির পূর্ণ ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট।

  • ড্রাগসের অপব্যবহার সহ অন্যান্য আসক্তিজনিত ব্যাধি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যর জন্য আমরা ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট শারীরিক, মানসিক সমস্যা সমাধানে বহুমাত্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করি।

  • আবাসিক এবং অনাবাসিক, উভ ক্ষেত্রে রিহ্যাব ক্লায়েন্টদের সেবায় রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ একদল দক্ষ কর্মীর সাথে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার থেরাপিস্ট, চিকিৎসক।

  • আমাদের রয়েছে মনোরম, আরামদায়ক পরিবেশে আধুনিক মানসম্মত আবাসিক সুবিধাসহ আফটার কেয়ার প্রোগ্রাম এবং রোগীদের দীর্ঘ সময়কালব্যাপী ড্রাগস আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় থেরাপি, কাউন্সেলিং সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

  • আপনজনেরা পাশে থাকলে জীবনের যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সহজে মোকাবেলা করা যায়।আর মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে এই কঠিন লড়াইয়ে ব্যক্তির সবচে বেশি প্রয়োজন পরিবারের সহযোগিতা।তাই, আমাদের বিশেষ প্রোগ্রাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে রোগীর প্রিয়জনেরা অংশ নিয়ে, মানসিক সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকতে পারে।

  • আমার হোমের শিখন, প্রশিক্ষণের চলমান আবহে ক্লায়েন্ট শেখে কি করে বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, যা কিনা পরবর্তীতে তাকে সমাজে কর্মমুখর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।

  • সর্বোপরি, আমরা বিশ্বাস করি এমন একটি বিস্তৃত সার্বিক কার্যকলাপে যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে আমরা চেষ্টা করি ক্লায়েন্টের মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার।

আমার হোম একটি অলরাউন্ডার রিহ্যাব সেন্টার। অর্থাৎ, নেশা থেকে সম্পূর্ণরুপে সুস্থ,মুক্ত হওয়ার জন্য একজন মাদকাসক্তের যা প্রয়োজন তার সবকিছুই এখানে এক ছাদের নিচে সহজলভ্য। আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যর মধ্যে রয়েছে;

  • স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক করমসুচি-২০১৬

  • মাদক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা।

  • ড্রাগসের অবৈধ ব্যবহার এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস পালন।

  • মাদকমুক্ত আলোকিতদের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ।

  • দ্বিতীয় আলোকিত সম্মেলনে সক্রিয় অবদান-অংশগ্রহণ।

ড্রাগস আসক্তি চিকিৎসায় আমাদের যত বিশেষত্ব

Meet Our Specialist

Dr. S.M Atikur Rahman
Dr. S.M Atikur Rahman
MBBS, Mphil ( Phychiatry )
Consutant, - Phychiatrist, BSMMU
Md. Tanvir Ahmed
Md. Tanvir Ahmed
Director Of Program
Addiction Professional - ( ICAP I )
Asst. Prof. Dr. Chiranjeeb Biswas
Asst. Prof. Dr. Chiranjeeb Biswas
MBBS, Mphil ( Phychiatry ) BSMMU
Head of Phychiatry - Medical College for Women & Hospital, Uttara
Dr. Md. Omar Faruk
Dr. Md. Omar Faruk
Residential Doctor
Head of Medical Unit
DR. Md. Shakhawat Hossain
DR. Md. Shakhawat Hossain
M.B.B.S (DU), MPH(NSU) PGT(Medicine)
Sp. Training in Addiction Treatment Director (Medical Unit)

ড্রাগস বা মাদক আসক্তি আসলে কি?

মাদক আসক্তি বলতে মূলত এমন একটি অবস্থাকে নির্দেশ করে যেখানে ব্যক্তি শারীরিক এবং মানসিক, উভয়ক্ষেত্রে অবৈধ নেশাজাতীয় পদার্থের উপর এমনভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে তা তার আচরণ এবং স্বাভাবিক কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ শুরু করে, ফলশ্রুতিতে ব্যক্তি ভারসাম্যহীন জীবনযাপন শুরু করে। মাদকাসক্তি এমন একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা যা মস্তিষ্কের গঠন, কার্যকারিতায় পরিবর্তন করে, এবং ধীরে ধীরে এর লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়। এছাড়া ব্রেইন কিভাবে কাজ করবে তাতেও প্রভাব বিস্তার করে। ড্রাগস আসক্তিকে অনেক ক্ষেত্রেই একটি স্নায়বিক রোগ হিসেবে ধরা হয়। প্রাথমিক প্রতিরোধ, সঠিক চিকিৎসা ছাড়া মস্তিষ্কের এই ক্ষতিকর পরিবর্তনগুলি দীর্ঘমেয়াদে এক সময় স্থায়ী হয়ে পড়ে এবং আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। ফলে রোগীর স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা, চেতনা এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যার কারনে মাদকের প্রতি তার আসক্তি আরো গভীর ও শক্তিশালী হয়ে যায় এবং এমনকি  ব্যক্তি  চাইলেও এ সমস্যা থেকে সহসা পরিত্রানের কোন উপায় থাকেনা।

শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক এই তিনের সমন্বিত থেরাপি ড্রাগস আসক্তির চিকিৎসায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। মাদকাসক্তির প্রভাবে একজন নিয়মিত মাদকসেবীর মনে ধারণা জন্মায় পছন্দসই মাদক না নিতে পারলে সে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয়ে যাবে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির এই ভুল ধারণার প্রভাব এক সময় মারাত্মক সব শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাড়ায়। যার মধ্যে অহেতুক দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে খিঁচুনি, হৃদরোগের মত জটিল রোগও আছে। অবহেলা বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মাদকাসক্তি হতে পারে মৃত্যুর কারণ। এছাড়া অ্যালকোহলের প্রভাবে ব্যক্তি আচরণের নিয়ন্ত্রন, বিচার-বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের মানসিক দক্ষতাও হারিয়ে ফেলে।বিকৃত হয়ে পড়ে তার মনজগত। স্মরণশক্তি কমে যাওয়া সহ স্বাভাবিক শিখন ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অ্যালকোহলের অপব্যবহারের ফলে  ব্যক্তি জীবনে যেসব নেতিবাচক পরিণতির সম্মুখীন হয়, সেসবের প্রভাবেও সে বার বার সেই মাদকেরই অভিশপ্ত চক্রে জড়িয়ে পড়ে। ফলে একসময় আসক্তি হতে মুক্ত হওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে যায়।

মাদক অপব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যর ক্ষতি করার পাশাপাশি প্রভাবিত করে ক্যারিয়ার, পারিবারিক সম্পর্ক এবং জীবনের স্বাভাবিক গুনগতমান। অ্যালকোহল ছাড়া এমনকি অনেককে প্রেসক্রাইবড ড্রাগসেও আসক্ত হতে দেখা যায়। অন্যান্য নেশার মধ্যে রয়েছে  বিভিন্ন রকম উদ্দীপনামূলক পার্টি ড্রাগস, রাসায়নিক কেমিক্যাল যা কিনা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া অনেকে হ্যালুসিনেশন তৈরির এলএসডির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে নেশা করে। তিক্ত হলেও সত্যি, সব ধরনের মাদকের মধ্যে মারিজুয়ানা সবচে বেশি পাচার হয়, অথচ চিকিৎসা জগতে উপকারী ভেষজ হিসেবে মারিজুয়ানার সুনাম রয়েছে।

সাধারণত, মাদকাসক্তি বলতে কেবল অবৈধ কেমিক্যাল বা বিভিন্ন  ড্রাগসের প্রতি আসক্তিকে বোঝালেও আসলে শুধু তাই নয়, বরং অ্যালকোহলের অসংযত ব্যবহারকেও আসক্তি ধরা হয়। যদিও, নানা পাশ্চাত্য, প্রাচ্য দেশে অ্যালকোহল বা মদ গ্রহন বৈধ, কিন্তু রিসার্চে দেখা গেছে মদের প্রভাব অনেকাংশেই ড্রাগসের মত ক্ষতিকর। এমনকি বেশিরভাগ অ্যালকোহলিক পরবর্তীতে আরো শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় নেশার খোঁজে ড্রাগসে আসক্ত হয়ে পড়ে।

মাদকাসক্তি নিয়ে অধিকাংশ মানুষ যে সাধারণ প্রশ্নটি করে তা হল ঠিক কি কারণে একজন ব্যক্তি ড্রাগসে আসক্ত হয়?

উত্তরে বলা যায়, একজন মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে হাজারো কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যেও গবেষণায় দেজগা গেছে যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন  ধরনের মানসিক ট্রমা বা জটিলতায় ভুগছে তাদের মধ্যে মাদক  প্রবনতা সবচে বেশি।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে শারীরিক, আবেগজনিত দুঃখ, যন্ত্রণা ভুলতে অনেকেই ড্রাগসকে সঙ্গি বানিয়ে নেয়।

তবে মূল কারণ জাই হোক না কেন, মাদকের আসক্তি একজন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের গুন-মানের চরম ক্ষতি করে থাকে এবং মারাত্মক পরিনতির কারণ হয়। তাই আশেপাশের কারো আচার আচরনে মাদকাসক্তের লক্ষণ দেখা গেলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া সহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমি কি মাদকাসক্ত?

ব্যপারতা যদি এমন হয় আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছেন মাদকে আপনার আসক্তি আছে কি না, তাহকে সম্ভাবনা রয়েছে আপন ইতিমধ্যে উত্তরটাও জানেন। বিপদে বা জটিল সমস্যায় আমরা প্রায়ই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সতর্কবার্তা অনুভব করি, কিন্তু প্রবৃত্তির তাড়নায় তা অবহেলা করি। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিন্তা-ধারাও অনেকটা এইভাবেই কাজ করে।

১. আপনার কি আসলেই ড্রাগসে আসক্তি রয়েছে; নিচের প্রশ্নগুলো আপনার পরিস্থিতি প্রকাশে সাহায্য করবে অনেকাংশেঃ

  • ড্রাগস ব্যবহারে আপনি কি অস্বস্তি অনুভব করেন?

  • মানসিক বা আবেগীয় জটিলতা এড়াতে ড্রাগস ব্যবহার করেন?

  • নিয়মিত ড্রাগস নেয়ার ফলে পরিবার, প্রিয়জনদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন?

  • মাদক নেয়া বন্ধ করে দিলে আপনি সামলাতে পারবেননা; এমন ভয় পাচ্ছেন?

যদি ড্রাগসের ভ্রম মাদকতায় আপনি চাচ্ছেন আপনার নানা জাগতিক সমস্যা থেকে পালিয়ে বাঁচতে বা  দুঃখজনক ঘটনায়  সান্তনা; তবে আপনার উচিত কোন অভিজ্ঞজনের পরামর্শ নেয়া। কখন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে এই আশংকায় একজন আসক্ত ব্যক্তি তার বন্ধুবান্ধব এমনকি পরিবারকেও এড়ানোর চেষ্টা করে।

ড্রাগস গ্রহন করার পর আপনি হয়ত স্বল্প সময়ের জন্য স্বস্তি অনুভব করবেন কিন্তু নেশা কেটে যাবার পর পূর্বের চেয়েও বেশি হতাশা আর অবসন্নতা বোধ করবেন।

পরিস্থিতির গ্লানি আর তা থেকে মুক্তি খোঁজার এই অশুভ চক্র অনেক ক্ষেত্রেই আপনাকে বাধা দেয় প্রকৃত সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে যার জন্য আপনি মাদক গ্রহণে উৎসাহী হয়েছিলেন।

এমনকি হতে পারে আপনি আপনার আপনজনদের ছেড়ে অপরিচিত বিভিন্ন মানুষের সাথে মেলামেশা করছেন, যদিও আপনি জানেন এধরনের মানুষের সঙ্গ আপনার জন্য ক্ষতিকর। দেখা যাচ্ছে আপনি দিনের একটা বড় সময় ব্যায় করছেন কিভাবে ড্রাগস জোগাড় করবেন অথবা ড্রাগস কেনার টাকা কথা থেকে পাবেন। আপনার এই অস্বাভাবিক আচরণই  আপনি যে ইতিমধ্যে মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে গেছেন, তার নিশ্চিত প্রমান দেয়।

মাদকের প্রতি নিজের ভীতিকর আসক্তি দেখে মনে হতে পারে এর হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নাই। এমনটা ভাবা আসলে কোন প্রকৃত সমাধান নয়। উপযুক্ত চিকিৎসা এবং শুশ্রূষার মাধ্যমে আসক্তি নিয়ন্ত্রন করা এমনকি এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়াও সম্ভব। কিন্তু এর পুরোটাই নির্ভর করছে  আপনার প্রথম পদক্ষেপ কি তার উপর। যদি মনে হয় আপনি আসলে ড্রাগস আসক্তিতে ভুগছেন;

  • বিশ্বস্ত কোন নিকটজনের সাথে আলোচনা করুন, সবচে ভাল হয় বাবা-মায়ের সাথে খোলাখুলি আলাপ, আলোচনা করলে।

  • ভালমানের কোন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের সেবা নিন।

আমার হোম ড্রাগ অ্যাডিকশন রিহ্যাবে রয়েছে আবাসিক, অনাবাসিক দু-ধরনেরই চিকিৎসা,কাউন্সেলিং, থেরাপি সুবিধা। হয়ত জটিল কোন থেরাপি নয় বরং কিছুদিন কাউন্সেলিং সেবা নিলেই আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। নিজেকে ড্রাগসে আসক্ত সন্দেহ হলে, নিশ্চিত হবার জন্য ড্রাগ টেস্টিং করান।কোন সমস্যা পাওয়া গেলে দ্রুত অভিজ্ঞ কোন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। মাদকের প্রতি আপনার এই আসক্তির ফলে জীবনে ভালবাসা, সম্মান, প্রজ্ঞাসহ কি কি হারিয়ে ফেলছেন তা ভাবুন। ভেবে দেখুন আপনজনদের মনের অবস্থা। আপনার এই বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে তারা কিভাবে কষ্ট পাচ্ছে।

সুতরাং, জীবনকে উপভোগ করতে, আপনার প্রাপ্য সুস্থ, আনন্দময় জীবন ফিরে পেতে আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করুন সর্বশক্তি নিয়ে।

হেরোইন আসক্তি

গোটা বিশ্বে হেরোইন বিভিন্ন নাম যেমন ডোপ,স্ম্যাক,জাঙ্ক পাওয়ার ইত্যাদি নামে পরিচিত। মাদকাসক্তি তৈরি করা এই ড্রাগসটি মূলত পপি নামক উদ্ভিদের বীজ থেকে সংগৃহীত হয়। এর মূল উপাদান যদিও মরফিয়া, তবে এতে ক্যাফেইন, বেকিং-সোডা এমনকি ইঁদুর মারার বিষও মেশানো হয়।

হেরোইন বিভিন্নরকমে পাওয়া যায়। কখনো  বাদামি বা ধবধবে সাদা পাউডার এমনকি কালো আঠালো বা চিটচিটে।

সাধারণত বলা হয়, পাউডার যত সাদা হবে,  হেরোইন তত বিশুদ্ধমানের। মূল উপাদানের সঙ্গে অন্যান্য দ্রব্যাদি মিশ্রণের ফলে এটি মূলত বাদামি রঙের হয়।এর গন্ধ অনেকটা ভিনেগারের মত ঝাঁঝালো বলে সনাক্ত করণে বিশেষভাবে তাই দেখা হয়।

হেরোইন নেয়ার বিভিন্নরকম পদ্ধতি রয়েছে।সিগারেট পাকিয়ে ধোঁয়ার মাধ্যমে, সরাসরি নাক দিয়ে, মাংসপেশিতে বা শিরায় ইঞ্জেক্ট  করে। নানা ধরণের ড্রাগস একই সাথে সহজ প্রাপ্য এবং দাম কম হওয়ার কারণে সমাজের উঁচুনিচু সকল স্তরের মানুষের জন্য সহজলভ্য। হেরোইন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মানের ড্রাগস হওয়ার ফলে, যারা এটি গ্রহন করে তারা খুব দ্রুতই কার্যকারিতা টের পায়। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনে অত্যন্ত পুলক সহ আনন্দ জাগে, অনেকেই যাকে পরমানন্দ বলে বর্ণনা করে। চেতনানাশক আফিম জাতীয় পদার্থ মস্তিষ্কের রিসিপ্টরগুলোর সাথে বিক্রিয়া করে অনেকটা ব্রেন সেলের মত আচরণ করে যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় মেজাজ-মর্জি, আনন্দের অনুভুতি। এটি  আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিশেষত এই ব্রেন স্টেম গুলো যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে থাকে। এছাড়া মস্তিস্কে তখন ধারণা জন্মে  হেরোইন তার জন্য অপরিহার্য এবং সে যেকোনো মূল্য পুনরায় হেরোইন নেয়ার জন্য ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে হেরোইন আসক্ত যেকোনো চরমপন্থা অবলম্বনে পিছপা হয়না।

১. নিয়মিত হেরোইন গ্রহনের ফলে ধীরে ধীরে অন্যান্য মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়; যেমন-

  • নিম্ন রক্ত চাপ।

  • বুকে ব্যথা।

  • হার্টবিট কমতে থাকা।

  • খোস-পাঁচরা।

  • শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা।

  • খাবার গিলতে অসুবিধা।

  • যখন তখন তীব্রবমি।

  • মাথাব্যথা।

  • তন্দ্রাছন্নভাব।

  • বমি ভাব এবং মাথা ঘোরানো।

  • খিঁচুনি বা মৃগীরোগ।

২. দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি আরো তীব্র ক্ষতিকর প্রভাব:

  • হৃদয়প্রাচীর বা হৃদকপাটি, হার্টের ভাল্ব ইনফেকশন।

  • ব্রণ, ফোঁড়া ইত্যাদির সংক্রমণ।

  • যকৃতের রোগ।

  • কিডনির সমস্যা।

  • বিভিন্ন ধরনের নিউমোনিয়াসহ  ফুসফুসের ক্ষতি হতে উদ্ভুত জটিলতা।

  • যৌন অক্ষমতা।

  • এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, সি এর মত জটিল সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব।

  • ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

  • গেঁটেবাত, অস্থিপ্রদাহ।

শুধু শারীরিক সমস্যাই না,ড্রাগসের ক্ষতিকর প্রভাবে দুরারোগ্য হতাশা, বিশৃঙ্খল-অসামাজিক ব্যক্তিত্বসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি জটিল মানসিক রোগও দেখা যায়।

হেরোইনের আসক্তি অত্যন্ত তীব্রপ্রকৃতির। এ থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব না হলেও বেশ জটিল।বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর থেকে এর ক্ষতিকর প্রভাব দূর করা ,আসক্তি পুরোপুরি নিবারণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং সঠিক নির্দেশনা মেনে না করা হলে  রোগীর জন্য খুবই বিপদজনক হতে পারে। কোন ধরনের ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট ছাড়া হেরোইনের নেশা ছাড়া আসক্তের জন্য অতীব কঠিন। এক্ষেত্রে তার উচিত আমার হোমের মত স্বয়ংসম্পূর্ণ কোন রিহ্যাব ক্লিনিকে ভর্তি  হওয়া যেখানে ড্রাগ টেস্টিং, ডিটক্সিফাইং, বিভিন্ন মাত্রার থেরাপি, দরকারি ঔষধ, কাউন্সেলিং সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। রোগী যদি সত্যিই হেরোইনের ভয়ঙ্কর আসক্তি থেকে মুক্ত হতে চায়, তবে ধাপে ধাপে তাকে রিহ্যাবিলিটেশনের প্রত্যেকটি সেশন শেষ করতে হবে। কেননা পূর্ণমাত্রার চিকিৎসা এবং সঠিক পরামর্শ, সমর্থনের মাধ্যমে এই আসক্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

মারিজুয়ানা আসক্তি

দেশ, গোত্রভেদে মারিজুয়ানাকে বৈচিত্র্যময় নামে ডাকা হয়। কেউ চিনে ভাং হিসেবে তো অন্নদের কাছে পরিচিত গাঁজা নামে। ঔষধি গুন থাকায় সম্প্রতি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে গাঁজা বৈধ  করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যদিও ১৯৮০ সালে গাজার চাষ, পরিবহন, আমদানি, বিক্রয় অর্থাৎ এর ব্যবহার অবৈধ ঘোষণায় আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তথাপি দেশে এর বিক্রি, ব্যবহার কোনটাই বন্ধ হয়নি।

মারিজুয়ানা গ্রহণকারি ৯০% মানুষ  সাধারনত জটিল মাত্রার আসক্তিতে আক্রান্ত হয়না। কিন্তু ১০%র ক্ষেত্রে তা দেখা যায় যা সমস্যাজনক। মারিজুয়ানায় আসক্ত ব্যক্তি নেশা থেকে বিরত থাকলে মনমরা, বিমর্ষ অর্থাৎ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়। নিয়মিত এর নেশা করার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অল্পতেই বিরক্ত হওয়া, অনিদ্রা, খাবারে অরুচি, অস্বাভাবিক ক্ষুধা, অস্থিরতা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি মূলত দুশ্চিন্তা, হতাশা বা  PTSD থেকে পরিত্রাণ পেতে এমনকি পেইনকিলার হিসেবে ও ব্যবহার করা হয়। মারিজুয়ানার উপকারিতা কিছু থাকলেও নিয়মিত সেবন করার ফলে এক ধরনের নির্ভরতা চলে আসে যা পরবর্তীতে আসক্তিতে রুপান্তরিত হয়। মারিজুয়ানার আসক্তি ত্যাগ করা হেরোইন, অ্যালকোহলের মত অত জটিল না হলেও যারা দীর্ঘদিন ধরে নেশাটিতে জড়িত, তাদের জন্য বেশ সমস্যা সৃষ্টি করে।

১. মারিজুয়ানা আসক্তির কিছু নিয়মিত উপসর্গ:

  • ধৈর্য এবং সহনশীলতা কমে যাওয়া।

  • গাঁজার নেশা কমিয়ে দেয়া বা বন্ধ করে দিতে অসমর্থ।

  • প্রাণচাঞ্চল্য কমে যাওয়া।

  • প্রাত্যহিক কাজকর্মে উৎসাহ কমে যাওয়া।

  • সময় নষ্ট করা।

মজার ব্যাপার হল, গাঁজা দ্রুত আসক্তি তৈরি করতে সক্ষম আফিং এর গোত্রভুক্ত নেশাদ্রব্য হলেও, এর আসক্তি বিকাশে বেশ  সময় লাগে। এমনকি অনেক সময় ব্যক্তি বুঝতেও পারেনা একটু একটু করে সে কখন গাঁজার নেশায় আসক্ত হয়ে গিয়েছে।

৩. উচ্চমাত্রার মারিজুয়ানা সেবনের ফলে নিম্নোক্ত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে:

২. মারিজুয়ানার স্বল্প-মেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব:

  • স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি ভ্রংশ।

  • উদ্বেগজনিত মস্তিস্কবিকৃতি।

  • মানসিক ব্যাধি।

  • অহেতুক আতঙ্ক।

  • বিভ্রমতার সমস্যা।

  • নিম্ন মনোবল।

  • অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ( হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি)।

  • খেলাধুলা বা ড্রাইভিং এর মত সমন্নয়মূলক কাজে দুর্বলতা।

  • বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়া।

  • শিখন ক্ষমতা এবং জটিল কাজ সম্পাদনার দক্ষতা নষ্ট হওয়া।

  • নিম্নমাত্রার জীবন সন্তুষ্টি।

  • হেরোইন, কোকেইনের মত উচ্চ মাত্রার অপদ্রব্য আসক্তি ঝুঁকি।

  • ব্যক্তিগত, সামাজিক সম্পর্কে সমস্যা।

  • আর্থিক সমস্যা বৃদ্ধি ।

আপনি বা আপনার কোন প্রিয়জন মারিজুয়ানা আসক্তিতে ভুগছে, এটা ধরতে পারাই আসক্তি নিরসনের প্রথম পদক্ষেপ।

আপনার নেশাগ্রস্ত জীবন পরিবর্তনের সুযোগ।আসক্তি নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা,নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিয়ে জন্য আমার হোম রয়েছে আপনার পাশে।নেশামুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে জাবার জন্য আপনার যে সব সাহায্য, সহযোগিতা দরকার তা সরবরাহে রয়েছে আমাদের বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্ট এবং চিকিৎসকগন।

ড্রাগ, মাদক অপব্যবহারের লক্ষণ

মাদকাসক্তির লক্ষণগুলো সাধারণত আসক্তিতে ব্যবহৃত মাদকের মতই ভিন্ন। কিছু কিছু ড্রাগসের ক্ষেত্রে আসক্তির লক্ষণ সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়। আবার অন্যান্যগুলোর বেলায়
আসক্তি নির্ণয় করা বেশ জটিল, ফলে উপযুক্ত চিকিৎসা, থেরাপি পরিকল্পনায় সমস্যা হয়। যেমন, হেরোইন আসক্ত ব্যক্তির শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে হেরোইন নেয়ার চিহ্নস্বরূপ ত্বকে পোড়ামতন গোল কালচে দাগ দেখা যায়। অন্যদিকে অ্যালকোহল আসক্তি সনাক্ত করা কঠিন, যতদিনে না আসক্তির মাত্রা বেড়ে যায়।

১. সুতরাং, আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার কোন আপনজন মাদকাসক্ত কিনা? বেশিরভাগ মাদকাসক্তি সমস্যায় কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। যদি কাউকে নেশাগ্রস্ত বলে সন্দেহ করেন, সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন তার মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায় কিনা:

  • প্রাত্যহিক, এমনকি পছন্দের কাজকর্মেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

  • বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া।

  • ঘন ঘন মন, মেজাজের পরিবর্তন।

  • পড়াশোনা বা পেশাদার ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা হ্রাস।

২. খেয়াল করুন নিম্নোক্ত শারীরিক লক্ষণগুলোও:

  • ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন,  স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম ঘুমানো।

  • লালচে বা অস্বাভাবিক জ্জলজলে চোখ, মণির পরিবর্তন।

  • দুর্বল সমন্বয় ক্ষমতা, হাঁটাচলায় যখন-তখন হুমড়ি খেয়ে পড়া।

  • অসংলগ্ন প্রলাপ বা নিরর্থক কথা বার্তা।

  • খিঁচুনিসহ হাত, পা কাঁপুনি।

  • সবসময় ঘুসঘুসে কাশি থাকা।

  • নাক-ডাকার সমস্যা।

  • অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন।

  • খাদ্যভ্যাসে পরিবর্তন, শারীরিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস।

  • ম্লান বা ফোলা ত্বক, অনিদ্রা।

  • ব্যক্তির শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ বা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ।

মাদকের অপব্যাবহার বা মাদকাসক্তির মূল সমস্যা হল এটি ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং যখন বেশিরভাগ লক্ষণ প্রকাশ পায় ততদিনে ব্যক্তি পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত এবং ড্রাগসের উপর নির্ভরশীল। এই কারণগুলোর কিছু প্রভাব রয়েছে,

  • তীব্র তাড়না- মাদকাসক্ত ব্যক্তি প্রায়শই তাদের আসক্তির বস্তু তথা ড্রাগস গ্রহনের তীব্র আকাঙ্খা অনুভব করে থাকে।

  • মাদকে সহনশীলতা বৃদ্ধি- দীর্ঘদিনব্যাপী মাদক গ্রহনের ফলে ব্যক্তির মাদক সহনশীলতা     বাড়তে থাকে। ফলে একসময় কাঙ্খিত প্রভাব পেতে  তারা উচ্চমাত্রায় মাদক গ্রহন করতে শুরু করে।

  • শারীরিক অবসন্নতা-  আসক্তির এক পর্যায়ে দেখা যায়, শারীরিক অবসন্নতার ফলে নেশাগ্রস্ত ইচ্ছা করলেও মাদক গ্রহন থেকে বিরত থাকতে, বা মাদকের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারছেনা। এই উপসর্গ থেকে বোঝা যায়, ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতাও অনেকাংশে ড্রাগসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

  • বিচার-বিবেচনার দক্ষতা হ্রাস- মাদকাসক্তদের চুরি, ছিনতাই, মিথ্যাকথা, ড্রাগস বিক্রির মত অপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়া সাধারণ ঘটনা। ড্রাগস সংগ্রহের তীব্র তাড়নায় তাদের কাজের পরিণতি বিচার করার মত স্বাভাবিক মানসিক দক্ষতা থাকেনা আর তারা তা বিচার করেও দেখেনা।

  • আর্থিক সমস্যা- নিয়মিত নেশার জোগানে  প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে  বেশিরভাগ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়।

  • বিপজ্জনক বন্ধুত্তে জড়িয়ে পড়া-  অপরাধী বা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সাথে  মেলামেশা বা বন্ধুত্বকে, মাদকাসক্ত নির্ণয়ে অন্যতম বিপদজনক সংকেত হিসেবে দেখা হয়। ড্রাগস আসক্তরা বন্ধু-বান্ধব বাছাইয়ে তার মত অন্যান্য আসক্তদের প্রাধান্য দেয়। এসব ফ্রেন্ডদের মধ্যে থাকতে পারে ড্রাগ ডিলার বা ক্রিমিনাল, যে মাদক গ্রহনের পাশাপাশি আসক্তকে অন্যান্য অপকর্মেও উৎসাহ দেয়।

দুর্নাম, বদনামের ভয়ে মাদকাসক্ত  পরিবার, সমাজ থেকে পালিয়ে থাকতে চায়। এর ফলে তারা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা প্যারানয়ায় আক্রান্ত হয় যা তাদের লোকজনের সঙ্গ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকে। এই বেলায় সবচে কার্যকরী হয় যদি আপনজনেরা তার সমস্যার ব্যাপারে অবগত হয়ে পরিবর্তিত মানসিক অবস্থার মোকাবেলায় তাকে সাহায্য করে।এর ফলে মাদকাসক্তি থেকে পূর্ণ আরোগ্য লাভ সহজসাধ্য হয়।

ব্যক্তির অনিয়নন্ত্রিত পানাভ্যাসের ফলে অ্যালকোহল আসক্তি বা মদ্যপ হওয়া আরেকটি গুরুতর মাদক সমস্যা। অ্যালকোহল আসক্তির পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে।এর মধ্যে বেশিরভাগই মনোবৈজ্ঞানিক, জেনেটিক বা আচরণগত। এমনকি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদির কারনেও অনেকে অ্যালকোহল আসক্তির ঝুঁকিতে থাকেন।অ্যালকোহল  শরীরে প্রবেশের পর রক্ত প্রবাহে মিশে যায় এবং শিরার মাধ্যমে মস্তিস্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়,যার ফলে এটি  ব্রেন এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে। আপনি যখন অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল পান করতে শুরু করেন, ধীরে ধীরে তা আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মদ্যপানের শুরুতে ব্যক্তি মাতাল হয়ে পড়ে, কখনো বা নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ দেখাতে শুরু করে। মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান কোমার জন্যও দায়ী।

ইয়াবা আসক্তি

“ইয়াবা”, থাই ভাষায় এর আক্ষরিক অর্থে অনুবাদ করা হয় ‘পাগলা ঔষধ’ । এইগুলো   ছোট লাল রঙের ট্যাবলেট যা মূলত মেথামফেটামাইন এবং ক্যাফিনের মিশ্রণে তৈরি। এটি একটি বিপজ্জনক উদ্দীপক যা শরীর এবং মস্তিষ্ক উভয়ের জন্য অত্যন্ত আসক্তিপূর্ণ এবং অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ  ও থাইল্যান্ডে এই মাদকের ব্যবহার ক্রমবর্ধমান এবং এই ওষুধের বেশিরভাগ শিকার যুবক, বিশেষত ধনী পরিবারের  থেকে। ওষুধটি বেশিরভাগ চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। কারণ তারা মনে করে, এটি যে কোন বিষয়ে মনোনিবেশ করতে এবং তাদের পড়াশুনার চাপের সাথে আরও ভালভাবে মোকাবিলা করতে সহায়তা করে।

১. এই মাদক ব্যবহার করা শুরু হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যখন কোন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হয়, অথবা শুধু মাত্র উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য। তার প্রভাব, যদিও উভয় স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী হয়।
মাদক এর তাৎক্ষণিক প্রভাব গুলো হচ্ছে :

  • আনন্দ-চঞ্চলতা  বোধ।

  • অধিক  শক্তি এবং সতর্কতা অনুভব করা।

এই অনুভূতি মূলত এই ঔষধের দিকে মানুষ আকর্ষণ করে। কিন্তু খুব শীঘ্রই, এই প্রভাব বন্ধ এবং জটিলতা শুরু হয়। রিপোর্টে আছে  ইয়াবা ব্যবহারকারীরা উচ্চ অবস্থার সময় বিভিন্ন অপরাধের লিপ্ত  হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, মনের অত্যন্ত কর্মশক্তির কারণে, ইয়াবা ব্যবহারকারীরা শুধু মজার জন্য ঝুঁকি নেয়।

২. তীব্র এই অনুভূতি, তবে খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যক্তির দেহে থাকে এবং খুব শীঘ্রই উচ্চ অনুভূতি বন্ধ হয় এবং স্বল্পমেয়াদী প্রভাবগুলি দেখাতে শুরু করে:

  • ক্ষুধামন্দা।

  • বর্ধিত হৃদস্পন্দন।

  • উচ্চ রক্তচাপ।

  • শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

  • বমি বমি ভাব।

যদিও অন্য মাদক  এর   তুলনায় ইয়াবা আসক্তি থেকে  বের   হওয়া আরও কঠিন, তবে প্রথম দিকের হস্তক্ষেপ প্রভাব এবং নির্ভরতাকে কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। যারা ইয়াবা আসক্ত তাদের কাছে দৃঢ় পরামর্শ ইয়াবা পুনর্বাসনের কেন্দ্রস্থল পরিদর্শন করার জন্য , যেখানে বিশেষজ্ঞরা এটির মাত্রা সম্পর্কে বলে   সাহায্য করতে পারে এবং এটির ক্ষতি সম্পর্কে বলবে আর এইখান থেকে বের হইতে রোগীকে  সাহায্য করবে।

এই প্রভাবগুলির তীব্রতা এবং উপস্থিতি ট্যাবলেটের গঠন এবং ব্যক্তির শরীরের সহনশীলতার উপর নির্ভর করে একএক জনের জন্য একএক রকম  হয়।
সম্ভবত প্রথম  প্রভাবটি  হচ্ছে  ঘুমের অক্ষমতা। ইয়াবাতে ক্যাফিন এবং মেথ উপাদানটি মস্তিষ্ককে এত শক্তি দেয় যে মস্তিষ্ক তার সচেতনতা থেকে নেমে আসতে পারে না। যদিও লোকটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ঘুমের ভীষণ প্রয়োজন বোধ করে, তবুও মস্তিষ্ক ক্লান্তিবোধ করে না  ।
দীর্ঘমেয়াদী ইয়াবা গ্রহণ করাটা আরও ক্ষতিকর। ব্যবহারকারীর হার্টবিট সাধারণের তুলনায় আরও দ্রুত হয়ে যাবে, রক্তচাপ বৃদ্ধি সাধারণ। এইটা  মস্তিষ্কের ক্ষতিতে ভূমিকা রাখে এবং ঘাড়ের শিরাও ছিড়ে যেতে পারে। অতএব, মস্তিষ্ক স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি আছে।

৩. অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব গুলো হইতেসে :

  • ফুসফুসের প্রদাহ।

  • চুল পরা।

  • যকৃতের ক্ষতি।

  • চামড়া ক্ষত।

  • কিডনি ক্ষতি।

  • অন্ননালীর ক্ষতি।

  • শিহরণ বা জব্দ।

অ্যালকোহলে আসক্তি

ইয়াবা, হেরোইন আসক্তি সহজে নির্ণয় করা গেলেও অ্যালকোহলের বেলায় সহজে তা করা সম্ভব হয়না। অ্যালকোহল জনিত আসক্তি ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন রকম দেখা যায়।ব্যক্তি যখন অত্যধিক মাত্রায় মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অ্যালকোহল গ্রহন ছাড়া বেশিক্ষন স্বাভাবিক থাকতে পারেনা তখন তাকে  অ্যালকোহলিক বলা যায়।

১. অ্যালকোহলে আসক্ত ব্যক্তি নিম্নোক্ত অসুবিধার সম্মুখীন হয়:

  • ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন,  স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম ঘুমানো।

  • লালচে বা অস্বাভাবিক জ্জলজলে চোখ, মণির পরিবর্তন।

  • দুর্বল সমন্বয় ক্ষমতা, হাঁটাচলায় যখন-তখন হুমড়ি খেয়ে পড়া।

  • কাণ্ডজ্ঞান বোধ কমে যাওয়া ।

  • শৃঙ্খলার অভাব বা সমন্নয়হীনতা।

  • দুর্বল হার্টবিট এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা।

  • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

  • সবসময় তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকা।

৩. অ্যালকোহলিজমের কিছু উল্লেখযোগ্য স্বল্পমেয়াদী প্রভাব নিম্নে উল্লেখ করা হল:

  • প্রায়শই বমিবমি ভাব অনুভূত হওয়া।

  • মাথাব্যথা থাকা।

  • অসংলগ্ন কথাবার্তা।

  • অতিরিক্ত টেনশন করা।

  • অনিদ্রায় ভোগা।

  • মনোসংযোগ করতে না পারা।

  • আকস্মিক মৃত্যু।

  • কোমায় পতিত হওয়া।

  • ফুসফুসে সমস্যা।

২. আরো লক্ষ্য করুন নিচের বিপদ সংকেতগুলো:

  • মদ্যপানের পরিমান বৃদ্ধি, ঘন ঘন অ্যালকোহল গ্রহন।

  • অ্যালকোহলে সহনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া বা হ্যাংওভার কম হওয়া।

  • যেখানে মদ্যপানের সুযোগ রয়েছে সেখানে ঘন ঘন উপস্থিত থাকা এবং অ্যালকোহল মুক্ত অন্যান্য জায়গা এড়িয়ে চলা।

  • বন্ধুত্তের প্রকৃতি পরিবর্তন, মাতালদের সাথে বন্ধু হতে আগ্রহী হওয়া।

  • মদ লুকিয়ে রাখা বা লুকিয়ে লুকিয়ে মদ্যপান।

  • আলস্য, হতাশা বৃদ্ধি সহ অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া।

অ্যালকোহলে আসক্ত  ব্যক্তি পানের সময় ভারসাম্য হারিয়ে বিপদজনক ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয়, যার ফলে শুধু তার নিজেরই নয় বরং অন্যান্যদেরও ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে।

৪. দীর্ঘস্থায়ী অ্যালকোহল আসক্তি, নিম্নের মারাত্মক পরিণামগুলোর কারণ:

  • ক্যানসার ঝুঁকি।

  • হৃদরোগ যেমন কারডিওমিওপ্যাথি।

  • মস্তিষ্কের ক্ষতি।

  • দুর্বল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা।

  • অগ্নাশয়ের প্রদাহ।

  • আলসার।

  • থায়ামিন ঘাটতিজনিত রোগবালাই।

  • সহিংসতা বা নিজের ক্ষতি করা।

এই মারাত্মক জটিলতাগুলো এড়াতে অ্যালকোহল অ্যাডিকশনের প্রাথমিক পর্যায়ে আসক্তি চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার নিশ্চিত সহ  অ্যালকোহল আসক্তির সাথে জড়িত সমস্ত ঝুঁকিগুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া বা চিকিৎসা করা সম্ভব।

আসক্তির প্রকৃতি অনুযায়ী আবাসিক বা অনাবাসিক রিহ্যাব প্রোগ্রাম অ্যালকোহল অ্যাডিকশনের জন্য একটি সাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসা। অনেকসময় কাউন্সেলিং এবং থেরাপিই যথেষ্ট। তবে রোগীর পরিস্থিতি যদি ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট নেয়ার মত জটিল হয়, তবে আবাসিক চিকিৎসা মাস অথবা বছরব্যাপি স্থায়ী হতে পারে।

আমার হোমের আধুনিক, আন্তরিক পরিবেশে  আসক্তদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রন, প্রয়োজনীয় থেরাপি এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অ্যালকোহল নিরসনে আসক্তকে  সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।এছাড়া অ্যালকোহলজনিত শারীরিক সমস্যা মোকাবেলা করে পুনরায় সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে উপযুক্ত ডায়েটের ব্যবস্থা করা হয়।

কেন আমরা বাংলাদেশের সেরা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার?

আমাদের বিশ্বাস আসক্তি নিরাময় কঠিন নয় বরং আপনার ইচ্ছা থাকাই যথেষ্ট;
মাদকাসক্তি একটি জটিল রোগ।এটি হতে পারে আতঙ্কজনক । অনেকসময় মানুষ বুঝতেও পারেনা সে কখন মাদকে আসক্ত হয়ে গিয়েছে। একজন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত হলে তার পুরো পরিবারে বাজে প্রভাব পড়ে। ফলস্বরূপ রোগী তার সবচে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক, মানসিক সহায়তা হারাতে বসে। কিন্তু আসক্ত যদি স্বীকার করে সে মাদকাসক্ত এবং এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তার সাহায্যর প্রয়োজন, তবে ইতিমধ্যেই সে আসক্তি চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি নিয়েছে। যাইহোক, আসক্তির ধরন এর জটিল প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বলে আসক্তি থেকে মুক্ত হতে শুধু শুভ উদ্দেশ্য বা শক্তিশালী ইচ্ছাশক্তি থাকাই যথেষ্ট নয় । এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজন বিশেষ পেশাদারী ট্রিটমেন্ট।

আমরা কিভাবে সাহায্য করতে পারি?

আমার হোম’ ড্রাগ, মাদকাসক্তি সমস্যার জন্য পেশাদারদের দ্বারা পরিচালিত একটি ড্রাগ পুনর্বাসন কেন্দ্র। ডিটক্সিফিকেশন, থেরাপিউটিক কমিউনিটিসহ ১২টি পর্যায়ে দলগত, ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং সেবা প্রদান আমাদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ।

আপনি যখন বুঝতে পারেন, ড্রাগসের আসক্তি আপনার জন্য ক্ষতিকর কিন্তু এরপরেও নেশা ছাড়তে পারছেননা; সেক্ষেত্রে অসহায় বোধ করা স্বাভাবিক। কিন্তু পুনরুদ্ধার পাওয়া সম্ভব এটাও আপনি উপলব্ধি করতে পারেননা। আসক্তি সমস্যা অন্য যেকোনো জটিল রোগের মত, এবং সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ আরোগ্যলাভ সম্ভব।তবে এটাও সত্যি, আমাদের সমাজে মাদকাসক্ত রোগীদের জন্য সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ দেখা যায়না। আসক্তির ফলে সৃষ্ট ক্ষতিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি। কিন্তু আপনি যখন আমাদের মত প্রফেশনাল রিহ্যাব সেন্টারে আসেন তখন আপনাকে ঘৃণিত নয় বরং অন্যান্য যেকোনো রোগীদের মত স্বাভাবিকভাবে ট্রিট করা হয়। তাই আপনি যদি আপনার নিজের বা প্রিয়জনের আসক্তি সমস্যায় সাহায্যর প্রয়োজন হয় তবে আমরা আছি আপনার পাশে। আমাদের ওয়েবসাইটে দেখুন চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা কনসাল্ট করুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে।

ড্রাগসের নেশা ত্যাগ করা জটিল কেন?

যেকোনো কিছুর অস্বাভাবিক আসক্তি মূলত মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্ক হচ্ছে মানবদেহের নিয়ন্ত্রনকেন্দ্র। এটি আমাদের আবেগ থেকে শুরু করে যাবতীয় শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রন করে। কিন্তু মাদকাসক্তি এই পুরো প্রক্রিয়াতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এমনকি মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের আনন্দ উদ্দীপনার জন্য দায়ী, অতিরিক্ত ড্রাগস গ্রহন সে অংশও নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে। ফলে, ড্রাগস তার ভোক্তাদের কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। আসক্তির শুরুতে একজন ব্যক্তি এটি উপভোগে আনন্দ বোধ করে। কিন্তু পরবর্তীতে আনন্দের জায়গায় গ্রাস করে হতাশা, আর এই হতাশা বোধ দূর করতে আসক্ত আরো বেশি মাদকে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ড্রাগসের আসক্তিতে সাধারণত এটাই ঘটে এবং এজন্যই আসক্তের জন্য ড্রাগস ত্যাগ করা জটিল হয়। কিন্তু এটাই কোন অপরিহার্য সমাধান নয়। আসক্তি ত্যাগ করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সঠিক সাহায্য এবং ইচ্ছাশক্তির বলে আসক্তিমুক্ত হয়ে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। আমার হোমে আমরা প্রস্তুত আপনাকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানে।

আমার হোম’ আন্তর্জাতিকমানের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার/ বিশ্বমানের আসক্তি চিকিৎসা সেবা

আমার হোমে প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী, সার্টিফায়েড থেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল বিশেষজ্ঞ কর্মীদল, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ পৃথকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। আমরা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করি এবং ব্যক্তির আচার, আচরণ, সমস্যার ধরন ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে বিশেষায়িত চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহন করি। শারীরিক, মানসিক উভয় ধরণের ট্রিটমেন্টের সাহায্য আমরা আসক্তি মুক্ত হওয়ার জন্য আপনার মনোবল অটুট রাখতে চেষ্টা করি এবং আমাদের মাল্টিলেয়ারড প্রোগ্রাম থেকে আপনি যেন সর্বাত্মক সুবিধা পান তা নিশ্চিত করি।
মাদকের আসক্তি দূরীকরণে কোন শর্টকাট পদ্ধতি নাই। ড্রাগস থেকে পুনুরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি জটিল প্রক্রিয়া সহজসাধ্য করার জন্য আমরা আমার হোমে’ চিকিৎসা শুরুর পূর্বে একজন পেশাদার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার জন্য উৎসাহীত করি, যাতে আপনি দ্বিধাহীনভাবে আপনার সমস্যা নিয়ে আলোচনা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং আসক্তি চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।এছাড়া রোগীর সম্পূর্ণ মেডিক্যাল হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়।

আমার হোম ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্য একটি, যা ২০১২ সাল থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং মাদকাসক্তদের রিহ্যাবিলিটেশনে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যর সাথে কাজ করে চলছে।

আপনি বা আপনার কোন প্রিয়জন মাদকাসক্তি নামের জটিলতার সাথে সংগ্রাম করলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেননা। সাহায্য চাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ, সময়ের উপযুক্ততা না।

Success History

Nothing is more harrowing than having to deal with the fact that you have a child who is addicted. It was a very unfortunate circumstance under which my son got addicted to some drugs. But AMAR Home was like an answer to a mother’s prayers. The specialists and therapists at the center worked incredibly in making my son believe that he could overcome his addiction. They spoke to him and counseled him in such a way that my son started to confide in them and open up. This helped him tremendously in getting to the root of the problem and has been able to have a more long-lasting effect on him. It has been almost a year now and my son is sober, clean and has a fresh outlook to life. Thank you, AMAR Home.

I want to take this opportunity to thank you, AMAR home for being such a great influence to my daughter’s life. You really turned her life around. Unfortunately, we as parents could not provide our daughter with the amount of love, care, honour, self-respect and determination that you were able to provide. She has come quite a long way since and she would never have been able to make it without you. It makes me shudder to think that had it not been for you, we might as well have been writing her obituary instead of this thank you letter. Thank you once again and all the best to your wonderful staff.

After years of struggling with addiction, a family friend of mine referred me to AMAR Home Drug Addiction Treatment Centre. From the time that I arrived there, I knew I was at the right place. To be quite frank, I was expecting to be judged for letting myself get addicted, but the staff welcomed me so warmly that I completely forgot about all my inhibitions. I was treated with dignity and respect and felt safe when I realized that there could be a better way to live. Every moment that I spent with the counselors, staff and other patients changed who I was. I can honestly say that AMAR Home saved my life! It has been almost 9 months since I left AMAR Home and I am now a happy person, living a peaceful and sober life. I strongly recommend AMAR Home. Thank you, AMAR Home, for believing in me and teaching me to love myself.

Emegency Care
View More Success History

সাক্ষাতের জন্য আবেদন করুন