আমরা দ্রুত এবং স্বল্প সময়ের ফলাফলে বিশ্বাসী নই। এজন্যই একজন ব্যাক্তি আমাদের নির্ধারিত মাদক পুনর্বাসনের সবগুলো প্রোগ্রাম শেষ করলেও আরোগ্য প্রক্রিয়া তখনো শেষ হয়না। মাদক, অ্যালকোহলজনিত আসক্তি চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর,  রোগীর পুনর্বাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যহত সমর্থন দান এক্ষেত্রে সাফল্য লাভের প্রধান শর্ত। রিহ্যাবিলিটেশন বা চিকিৎসা আসলে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অ্যালকোহলের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার, বেড়ে ওঠার ব্যাক্তির জীবনব্যাপী এক দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের সূচনামাত্র।

প্রোগ্রাম গ্র্যাজুয়েটদের ধারাবাহিকভাবে সম্পূর্ণ সহায়ক যত্ন প্রদানের উদ্দেশ্য প্রতি সপ্তাহান্তে রয়েছে সাপ্তাহিক শুশ্রূষা-পরিচর্যা কর্মসূচী। সাধারণত আমাদের পূর্ণমেয়াদি আবাসিক সেবা গ্রহনের পর রোগীরা এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে থাকে। যদিও তারা ইতোমধ্যে প্রাথমিক মূল চিকিৎসার অংশ হিসেবে ৪মাস ব্যাপী নিবিড় পরিচর্যার বিভিন্ন স্তর পার করে এসেছে তথাপি দেখা গেছে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনমূলক প্রোগ্রামে সংযুক্ত থাকলে তা রোগীদের মাদক পরিহারে বেশি সাহায্য করে থাকে।

আমার হোমের এই সাপ্তাহিক আয়োজনে থাকে বিভিন্ন দলগত কর্মসূচী এবং একজন অভিজ্ঞ কাউন্সেলর যিনি কিনা ক্লায়েন্টদের পুনর্বাসন পরিচর্যার নানা ক্ষেত্রে পরিকল্পনা পরামর্শ দিয়ে গাইড করে থাকেন। চিকিৎসা পরবর্তী এ দেখভাল কার্যক্রম মূলত ক্লায়েন্টের জন্য পথনির্দেশক ফোরাম হিসেবে কাজ করে, এখানে ক্লায়েন্ট মাদক প্রতিরোধে তার সংগ্রামের সাফল্য, ব্যর্থতা সহ প্রতিদিনকার নানা সমস্যা নিয়ে গ্রুপ কোঅরডিনেটর এবং অন্যান্য রোগীদের সাথে আলোচনা করে থাকে। আমরা আমাদের উপযুক্ত ক্লায়েন্টদের NA/AA  সহ বিভিন্ন বাৎসরিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিয়ে থাকি। প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েট এ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্য প্রতি বছর বার্ষিক পিকনিক, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং প্রয়োজনভেদে স্পন্সরশিপের আয়োজন করা হয়। আমাদের আফটার-কেয়ার প্রোগ্রামটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে আমার হোমের নতুন পুরাতন ক্লায়েন্ট, কর্মী, ভলান্টিয়ার, পরিবারের সদস্য, সামাজিক প্রতিনিধি সহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকাসক্তি নিরসনে কাজ করা হয়।

ড্রাগ পুনর্বাসনে আফটার কেয়ারের গুরুত্ব

ড্রাগস আসক্তি নিরাময়ে একটি পূর্ণমেয়াদী আবাসিক রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম যথেষ্ট ফলপ্রদ এবং কার্যকরী। কিন্তু উপযুক্ত আফটার কেয়ার বা চিকিৎসা পরবর্তী ফলোআপের ব্যবস্থা না থাকলে সম্ভাবনা থাকে পুরনো পরিবেশে আবার পুরনো অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ার। এছাড়াও আমার হোমের আবাসিক চিকিৎসায় যেসব সরঞ্জামাদি, ওষুধপত্র ব্যবহার করা হয় তা আবার আফটার কেয়ার চলাকালীন রোগীদের সরবরাহ করা হয়। নেশার অন্ধকার জগতে একটা লম্বা সময় পার করার পর নেশা ছেড়ে দেয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া কিন্তু মাদকরোধে আবাসিক পুনর্বাসন মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিজের ওপর বিশ্বাস ইত্যাদির মৌলিক সংমিশ্রণ এবং এ প্রক্রিয়া মাস শেষ হওয়ার সাথে শেষ হয়না।

আমার হোমের বিস্তৃত এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়া আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়না বরং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার নিত্যদিনের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করাতেও সাহায্য করে। আমাদের আরেকটি বিশেষ সুবিধা হল, টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে দলগত কাউন্সেলিং সেবা যা আপনি সুবিধাজনক সময়ে ঘরে বসেই নিতে পারবেন। ট্র্যাফিক জ্যামের এই দুঃসহ অবস্থায় আপনার সময় অপচয়  করে থেরাপির জন্য আমার হোম অফিসে আসতে হবেনা যেখানে আপনি ফোনের মাধ্যমে আপনার ইতিমধ্যে পরিচিত গ্রুপের সাথে এবং একজন বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলরের তত্ত্বাবধানে থেরাপিতে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া রয়েছে একক বা ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং সুবিধা, অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের আফটার-কেয়ার কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ। আমরা টুইটার এবং মেসেজে নানা অনুপ্রেরণামূলক ছবি,কাহিনী ইত্যাদি পোস্ট করার মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলি।

রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ব্যবহৃত ড্রাগস টেস্টিং সরঞ্জামাদি

চিকিৎসা কেন্দ্রে মাদক ও এলকোহলের মাত্রা নির্ধারণে স্ক্রিনিং করার বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি রোগী ও থেরাপিস্টদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনে সাহায্য করে থাকে।এছাড়া স্ক্রিনিং টেস্ট করার ফলে চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারেন যে রোগী  সত্যিকার অর্থেই মাদকের আসক্তি থেকে মুক্ত, সুস্থ হতে চাচ্ছে। আবার, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিও আশ্বাস পায় সে মাদক থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসের সাথে বৃহৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। অধিকন্তু, ড্রাগ টেস্টিং স্ক্রিনিং করা একটি জটিল ও যথেষ্ট সাহসি পদক্ষেপ হওয়ার কারনে এ পরীক্ষা ব্যাক্তি ও তার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়, আপনজনদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, এটি আসক্তির পুনঃআবর্তন, পুনঃআবর্তনের কারণ, প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি চিহ্নিত করতেও সহযোগিতা করে। যদিও এ স্ক্রিনিং মূলত নেশার প্রলোভন বা আসক্তি নিরসনে কাজ করে, অধিকন্তু, এর ফলে চিকিৎসা কর্মীরা বুঝতে পারে রোগী পুনরায় মাদকসেবন করছে কি না এবং ক্ষতি কমাতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে। এতে করে দক্ষ সেবা কর্মীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পায়, এমনকি রোগী যদি মাদক গ্রহনের বিষয়টি স্বীকার নাও করে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, রিহ্যাব সেন্টারে ড্রাগস টেস্টিং স্ক্রিনিং করা হলে তা রোগীর দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়, চিকিৎসায় তার যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে তার ধারণা দেয় এবং কোন অবস্থাতেই যেন ক্লিনিকে মাদক বা এলকোহলের প্রবেশ না ঘটে তাও নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।