মাদকাসক্তি যেকোনো সমাজ,সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। মাদকের ভয়াল থাবা কেরে নেয় যেকোনো হাসিখুশি পরিবারের সুখ, স্বপ্ন, স্বস্তি। ধ্বংস করে পারিবারিক বন্ধন,স্বজনদের  বিশ্বাস। একজন মাদকাসক্ত তার নেশার টাকা যোগাড়ের প্রয়োজনে  এহেন কোন অপকর্ম নেই যা করতে পারেনা। প্রায়শই নেশাগ্রস্তদের চুরি, ডাকাতি থেকে শুরু করে খুন-খারাবীতেও জড়িয়ে পরতে দেখা যায়। মাদকাসক্তি যেকোনো  পরিবার, সমাজের জন্য স্রেফ অভিশাপ যা মহামারীর মত ছড়িয়ে সবকিছু ধ্বংস করতে উদ্যত হয়।

আমার হোম এহেন বহু মাদকাসক্ত ব্যাক্তির পরিবারের জন্য আশার প্রদীপ হয়ে কাজ করছে। মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন শুরু করার প্রত্যাশায় রোগীরা আমাদের কাছে আসে। আমরা তাদের সে প্রত্যাশা বুঝি, আর তাই সহযোগিতা, ভালবাসার আন্তরিকতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করি তাদের মাদকাসক্তি মুক্ত নির্মল জীবন ফিরিয়ে দিতে।

মাদকাসক্তি ধ্বংস করে দেয় জীবনের স্বাভাবিকতা। একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি যখন আমাদের কাছে আসে ততদিনে সে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের সকল ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পরীক্ষিত এবং কার্যকরী নিবিড় সেবা-শুশ্রূষা, আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসার সাহায্য সুস্থ করে আমরা তাদের সমাজে বোঝা নয় বরং সম্পদ হয়ে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেই। তারা বেঁচে থাকে যেন মাদকমুক্ত এক নব-জীবন লাভ করে। আমাদের প্রত্যেক ক্লায়েন্টের জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা দিবসকে তার দ্বিতীয় জন্মদিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।

যেহেতু নব-জন্মোৎসব পালনের এই উদ্ভাবনী আইডিয়া আমাদের একান্তই নিজস্ব, তাই এসম্পর্কে আপনাদের মনে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। সমস্যা নেই, খোলাসা করে দিচ্ছি।

ধরে নিন, কোন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি ৪মাস ব্যাপী দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ আবাসিক চিকিৎসা,শুশ্রূষা পেতে আমার হোম’ রিহ্যাবে ভর্তি হল। চার মাস পর এক শুভদিনে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সে রিহ্যাব ত্যাগ করলো। এই শুভদিনটি হল তার দ্বিতীয় বার্থডে বা মাদকমুক্ত জীবন শুরুর ক্লিন বার্থডে। পরবর্তীতে প্রতি বছর আমরা ওই দিনে তার নব-জন্মোৎসব পালন করে থাকি। সেদিনের পুরো দিনটি ক্লায়েন্ট আমাদের সাথে কাটায়,অন্যান্য রোগীদের সাথে নতুন জীবনের শিক্ষা-অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। ক্লায়েন্ট তার প্রেরণামূলক বক্তৃতায় অন্যান্য মাদকাসক্তদের নেশার পথ ত্যাগ করে সুস্থ, নির্মল জীবনযাপনের উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে থাকে। বর্ণনা করে মাদকাসক্ত হওয়ার আগের জীবন, নেশার আর নেশামুক্ত পরবর্তী নতুন জীবনের।

অনেকসময় পরিবারের সদস্যরাও এই আনন্দে শামিল হয়। তারাও শেয়ার করে কিভাবে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তাদের পরিবার ধ্বংসের উপক্রম হয়েছিল; এখন তারা কিভাবে আবার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে।

আর আমাদের নিয়ত অনুপ্রেরণা এই নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর মানুষগুলোর হাস্যজ্জল চেহারা।আসক্তি নিরাময়ের দীর্ঘ এই যাত্রার সমস্ত ঝামেলা, যন্ত্রণা তখন আমাদের সার্থক হয়েছে মনে হয়।

আমার হোম’ নিছক কোন মাদকাসক্তি রিহ্যাব নয় বরং নেশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার পরিবার। অফিশিয়ালি চিকিৎসা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রোগীদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়না। নির্দিষ্ট সময় পর পর আমরা তাদের ফলোআপ করে থাকি। পুনরায় যেন আবার নেশার জগতে পা না বাড়ায় তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়। রোগীদের প্রতি এই আন্তরিকতাই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা রিহ্যাব হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে।

আমার হোমের অন্যতম মূলনীতি হল রোগীদের জন্য আদর্শ পরিবারের মূল্যবোধ গঠন ও তা অনুসরণ করা। পারিবারিক মননশীলতা অনুসরণের পথ তৈরি করা আমাদের জন্য কখনোই সহজ ছিলনা। কিন্ত, এতসব প্রতিকূলতা্র পরেও আমরা হাল না ছেড়ে ঠিকই সফলতার মাইলফলক ছুঁতে সক্ষম হয়েছি।

ক্লিন বার্থডে উদযাপন আমাদের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।এই ধারণা আমাদের রোগীদের নতুনভাবে বাঁচতে, পরিবার ও সমাজের জন্য নতুন কিছু করতে উদ্যম, প্রেরণা দেয়। তাছাড়া সে তখন সমাজের রীতিনীতি ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা পেয়ে থাকে। এছাড়া ভবিষ্যতে তার জীবনপন্থা কি হবে তারও সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমার হোম’ আপনার একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর মতই যে কিনা মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।